দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে বরযাত্রীর গাড়ি থামিয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া নববধূ তামান্না আক্তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক ভিডিও বার্তা দিয়েছেন। এতে তিনি বলেছেন, ‘জোর করে হোক কিংবা নিজের ইচ্ছায় হোক, যেভাবেই এসে থাকি, এসে তো পড়েছিই। এখন এখানেই থাকব।’
এর আগে রোববার (৩০ আগস্ট) উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের হাজিপুর বাজার এলাকায় বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার পথে বরযাত্রীদের গাড়ি আটকে নববধূকে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে আতিকুর রহমান মিয়াদের বিরুদ্ধে। তিনি চর হাজিপুর গ্রামের বাসিন্দা ও ছাত্রদলের কর্মী বলে জানা গেছে।
ভিডিওতে তামান্নাকে আরও বলতে শোনা যায়, ‘আমি যদি এখন ফিরেও যাই, আমার মান-সম্মান ফেরত আসবে না; আমার বাবা-মায়ের মান-সম্মানও আর ফিরে আসবে না। তাই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এখানেই থেকে যাব।’
এদিকে, সোমবার (৩১ আগস্ট) রাতে প্রকাশ্যে আসা নববধূ তামান্না আক্তারের ওই ভিডিও চিত্রে তাকে কয়েকজন নারীর সঙ্গে একটি কক্ষে বসা অবস্থায় দেখা যায়। সেখানে দরজার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন অভিযুক্ত আতিকুর রহমান মিয়াদ। তবে ভিডিওটি কোথায় ধারণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে জানাতে পারেনি পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হোসেনপুরের সিদলা ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের তামান্না আক্তারের সঙ্গে নান্দাইল উপজেলার রাজাবাড়িয়া গ্রামের আক্তার মিয়ার পারিবারিকভাবে বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্নের পর নববধূ তামান্নাকে নিয়ে বরপক্ষ বাড়ি ফিরছিল। পথে ২০-২৫ জন যুবক মাইক্রোবাসটির গতিপথ রোধ করে মিয়াদের নেতৃত্বে গাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে তামান্নাকে নিয়ে স্থান ত্যাগ করে।
এর পরপরই তামান্না ও মিয়াদের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে গুঞ্জন ওঠে। তবে এই প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি স্বাধীনভাবে কোনো নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত মামলা দায়ের করা হয়নি। তবে পুলিশ ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাকে উদ্ধারের পর পুরো ঘটনার প্রকৃত সত্যতা উন্মোচিত হবে।
কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রাফিউল ইসলাম নওসাদ জানান, ঘটনাটি জানতে পেরে তারা ইতিমধ্যে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।
অন্যদিকে, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব শহীদুল্লাহ কাইসার শহীদ বলেন, সে দলীয় কর্মী হলেও যা করেছে তা একটি গর্হিত ও অন্যায় কাজ।
কেএম